দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সুব্রত রায় নামে এক যুবকের গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা বীরগঞ্জ-খানসামা সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেমবাজার এলাকার কার্তিক রায়ের ছেলে সুব্রত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানান।
বীরগঞ্জ থানার মামলা নং ৫, তারিখ ০৩/০৯/২৬ ইং, ধারা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ২৬ তৎসহ ১৫৩ পেনাল কোডে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুব্রত রায় (২০)-কে। তিনি শ্রী কার্তিক চন্দ্রের ছেলে, সাং প্রেম বাজার, নিজপাড়া, থানা বীরগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুব্রত রায়কে যথাযথ পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালত, দিনাজপুরে প্রেরণ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান আনিস এবং বীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ জাহাঙ্গীর বাদশা রনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয়, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “অভিযোগের ঘটনায় সুব্রত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করা হলে তারা অবরোধ তুলে নেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ জাহাঙ্গীর বাদশা রনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান আনিস বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে শান্ত থাকতে হবে।”
তিনি জানান, অভিযুক্ত নিজেই ফোন করে তাকে বিষয়টি অবগত করেন এবং দাবি করেন যে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তাকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কোনো ঘটনার কারণে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রেমবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. বিয়েল হোসেন বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। কোনো ঘটনার কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।”
অভিযুক্ত সুব্রত রায় (২০) প্রেমবাজার এলাকার শ্রী কার্তিক চন্দ্রের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় মামলা নং ৫, তারিখ ০৩/০৯/২৬ ইং দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ২৬ তৎসহ ১৫৩ পেনাল কোড ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে যথাযথ পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালত, দিনাজপুরে প্রেরণ করা হয়েছে।


















