মো.সিয়াম হোসেন শামীম,কাহারোল উপজেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগর গ্রামে ঢেপা নদীর পাড়ে যুবকদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফুটবল খেলার মাঠে রাতের আঁধারে হালচাষ করে ব্যক্তিগত দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুব খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্তনগর গ্রামের ঢেপা নদীর পাড়ে এলাকার যুবকদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি ফুটবল খেলার মাঠ গড়ে তোলা হয়। গত কয়েক বছর ধরে মাঠটি স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কান্তনগর যুব সংঘ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তত্ত্বাবধানে মাঠটিতে প্রতিবছর ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
এসব টুর্নামেন্টে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেন। খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন বিপুলসংখ্যক দর্শক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এসব আয়োজনে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ সালের গভীর রাতে একই গ্রামের সালাম সুপার নামে এক ব্যক্তি মাঠটিতে হালচাষ করেন। স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে মাঠটি ব্যক্তিগত দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরদিন মাঠে খেলতে গিয়ে হালচাষের বিষয়টি দেখতে পান স্থানীয় যুব খেলোয়াড়েরা। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় যুবসমাজের দাবি, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তরুণদের খেলাধুলা ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মাঠটি ঘিরে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন গ্রামের খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে। তাই মাঠটি রক্ষা করা তাঁদের প্রাণের দাবি।
যুবকেরা আরও জানান, মাঠটি যেন কোনোভাবে দখল হয়ে না যায়, সে জন্য তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে মাঠের জমির মালিকানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর মতে, তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি খেলার মাঠের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই কান্তনগরের মাঠটি রক্ষা করে স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলা অব্যাহত রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।

















