দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে বিএডিসির সরকারি সারগুদাম থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ২২৭ মেট্রিক টন সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুদামের স্টোরকিপার মো. আকতারুল ইসলাম (৩৫)কে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় বিএডিসির সারগুদামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকতারুল ইসলাম চলতি জুলাই ও আগস্ট মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সার বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। সরকারি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার কীভাবে বিক্রি হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটক আকতারুল ইসলাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আরাজি যুগিরঘোপা গ্রামের আফসার আলীর ছেলে।
এদিকে সরকারি গুদাম থেকে সার বিক্রির ঘটনায় বীরগঞ্জের বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ ডিলার সোহাগ(৩৮) এবং কাহারোলের ডিলার আনসারুলের(৪০) নামও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আটক আকতারুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম উল্লেখ করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বীরগঞ্জের বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ ডিলার সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সে নিজে বাঁচতে আমার নাম নিয়েছে। আমি এ ধরনের কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নই। সরকারি গুদাম থেকে সার বিক্রির ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি আরও বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বা কথা বলা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে কাহারোলের বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ ডিলার আনসারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। সরকারি গুদাম থেকে সার বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তবে আকতারুল ইসলাম সোহাগ ও আনসারুলের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
আকতারুলের বিরুদ্ধে অতীত অনিয়মের অভিযোগ
এদিকে আকতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আকতারুল ইসলাম এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অতীতেও তার চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জমি কেনা ও ভুট্টা মজুদের অভিযোগ
আকতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ করেছেন খানসামা পাকেরহাট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী।
তার দাবি, আকতারুল ইসলাম দিনাজপুরের সুইহারি এলাকায় জমি কিনেছেন। এছাড়া পাকেরহাট বাইপাস সড়কের পাশে সুমিলের নিকটবর্তী এলাকায় প্রায় ৬ শতাংশ জমি আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা দিয়ে কেনার কথাও তিনি জানান।
ওই ব্যবসায়ী আরও দাবি করেন, আকতারুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ ভুট্টা মজুদ করে রাখতেন।
সরকারি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার অনুমোদন ছাড়া কীভাবে বাইরে গেল, সার বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত এবং গুদামের মজুদ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ২২৭ মেট্রিক টন সরকারি সার বিক্রির অভিযোগটি গুরুতর। তাই গুদামের মজুদ, বিক্রির নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনসহ সার্বিক বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


















