আমিনুল ইসলাম, কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের কাহারোলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি গোডাউন থেকে ৪৫২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সারের পরিমাণ ২২ হাজার ৬০০ কেজি। এ ঘটনায় একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কাহারোল বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার সরঞ্জা গ্রামের তজিবুল হকের ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম। তিনি কাহারোল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও ‘অরিন ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী অলিউর রহমানের ছোট ভাই।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোডাউনটিতে ৯৬ বস্তা ইউরিয়া, ৩০৯ বস্তা টিএসপি ও ৫৭ বস্তা এমওপি সার মজুত ছিল। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি হিসেবে মোট ৪৫২ বস্তা সারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ হাজার ৬০০ কেজি।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের খুচরা সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স থাকলেও মজুত করা সারের কোনো ক্যাশ মেমো পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সার মজুতের হিসাব সংবলিত রেজিস্টারও সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব অনিয়মের কারণে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ৮(১) ধারায় মো. খাইরুল ইসলামকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সিহাব মোহাম্মদ ইমতিয়াজ এবং কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোখলেদা খাতুন । প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। এ সময় কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেদা খাতুন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার মজুত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ যাতে কেউ না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা সার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কৃষি কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।


















