বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার জেরে এক কৃষকের প্রায় ১০০ মন ভুট্টা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় চুক্তিভিত্তিক চাষ করা পটল ক্ষেতের গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। একের পর এক ফসল নষ্ট ও লুটপাটের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক রবিউল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ নং মোহনপুর ইউনিয়নের জোতরুঘু গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম প্রায় ৯৫ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। গত ৮ মে ভোরে সংঘবদ্ধ একটি দল তার ক্ষেত থেকে প্রায় ১০০ মন ভুট্টা কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে আসাদুর রহমান লালু ও মৃত কিসামত মোল্লার ছেলে আলমাস মুহুরীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ক্রয় সুত্রে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্যপক্ষ আরএস জরিপে জমি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি আদালতে সংশোধনী মামলা করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন আমার ক্ষেতের সব ভুট্টা কেটে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করেছে এবং বিভিন্ন সময় চাষাবাদে বাধা দিয়ে আসছে।
এদিকে, রবিউল ইসলামের স্ত্রী আমিনা খাতুন জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও তাদের রসুন, পেঁয়াজ, লাউ ও গাজরের গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। এরপর ৮ মে ভোরে ভুট্টা কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ ১২ মে চুক্তিভিত্তিক চাষ করা পটল ক্ষেতের সব গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিবারকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
জমির বর্গাচাষী আকবর আলী বলেন, তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে ওই জমিতে পটল চাষ করেছিলেন। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সব পটল গাছ কেটে ফেলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের ফসল বারবার নষ্ট ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
১০ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহীন বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত করেনি। তাই ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















